ভারত প্রশ্নে জয়ার মোক্ষম জবাব

‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাওয়ায় এদেশের এক শ্রেণির ফেসবুকারদের জুড়ি নেই। আপনি হয়তো কোনো মুভি নিয়ে আলোচনা করলেন,

তারা বলবে কই, ওমুক ঘটনা নিয়ে তো কিছু বললেন না। তাদের ভাবটা এমন, আপনিই যেন সব কিছু বলার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন! সেলিব্রেটিরা হরহামেশাই

এসব ঘটনার শি’কার হন। এবার যেমন ঘটল জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী জয়া আহসানের ক্ষেত্রে। ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া সেই ব্যক্তিকে জয়া দিয়েছেন মো’ক্ষম জবাব।

করোনা সং’ক্রমণের মাঝে গতকাল এক ম’র্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশে। বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধা’ক্কায় আরেকটি ছোট লঞ্চডুবিতে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের লা’শ উ’দ্ধার করা হয়েছে। এই হৃ’দয়বিদারক ঘটনা

নিয়ে নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন জয়া আহসান। সেখানে চাঁদ সুলতানা মিথিলা নামের একজন অ’প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে বসেন। ইংরেজি হরফে লেখা বাংলা ভাষায় সেই ব্যক্তি কমেন্টে লিখেন, ‘ইন্ডিয়া থেকে পানিতে দেশ ডুবিয়ে দিচ্ছে,

সেটা নিয়া কিছু বলেন। আপনার প্রাণপ্রিয় দেশ দাদাদের দেশ নিয়া তো কিছু বলতে শুনলাম না। সারাদিন এত তাদের ভালো ভালো পোস্ট দেন এখন চুপ কেন?’ এছাড়া হিমালয় হিমু নামের একজন অ’শ্লীল ভাষায় জয়া ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার চে’ষ্টায় আছেন বলে

মন্তব্য করেন। শো’কাবহ একটি স্ট্যাটাসে এমন উদ্ভট মন্তব্য দেখে চটে যান জয়া। তিনি কমেন্টে লিখেন, ‘আচ্ছা!! ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টায় ছিলাম? তাই নাকি? আদৌ বাংলাদেশীরা নাগরিকত্ব পায় নাকি? আমি তো এত বছর সেখানে গিয়ে কাজ করছি, আবার চলে আসছি।

আমি তো জানি ভারতীয় সং’বিধান অনুযায়ী ওখানে বাংলাদেশীরা নাগরিকত্ব পায়না। আমি তো চেষ্টাও করিনি কোনোদিন। কারণ আমি বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত। তাই অন্য কোনো দেশের নাগরিক হবার সেই চিন্তাটাও আমার মাথায় আসেনি। তবে আপনার লেখা টা দেখে মনে হলো আপনি মনে হয় ভারতীয় নাগরিকত্ব

নেবার চেষ্টা করেছিলেন, তাইনা? কিন্তু আফসোস!! হালে পানি পাননি। আর আম্পানে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বড় স্টেটাস ছিল? একটু পেছনে গিয়ে সেই পোস্ট টা দেখে নিন তো, ঠিক কটা লাইন লিখেছিলাম। হিমালয় হিমু নাম টা ব্যবহার করছেন। হুমায়ূন স্যার- এর লেখা এত প্রিয় একটা চরিত্র। তো সেই নাম ব্যবহার করে বাংলাতে এত কাঁচা হলে চলবে?

একটু ভালো করে পড়া টা শিখতে হবে তো নাকি! ‘আর চাঁদ সুলতানা মিথিলা, আমার মনে হয় শেষ লাইন টা পড়ে দেখেননি। মানেটাও বোঝেননি। তাছাড়া আমার লেখা আপনাকে পড়ার জন্য মাথার দায়ও কেউ দেয়নি বলেই আমার বিশ্বাস। তো সানন্দে এগুলো ইগনোর করতে পারেন। আর যদি এতই লেখার ইচ্ছা হয় তো নিজের টাইমলাইন-এ লিখুননা। আমাদের দেশের অসুবিধা নিয়ে,

স’মস্যা নিয়ে যত আমরা সোচ্চার হবো ততই তো আমাদের দেশের ভালো নাকি!! আমাকে গা’লাগালি বা বাজে কথা লিখে অনেক সুখ হয়তো পাওয়া যায়। কিন্তু এই কষ্ট টা একটু দেশের মঙ্গলের জন্য করলে ভালো হয়না? অন্তত ফেসবুক-এ লিখেও তো একজনের জন্য হলেও তো সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।’ জয়ার এই চ’মৎকার জবাবেও সেই বো’ধবুদ্ধিহীন ব্যাক্তিদের কি বোধোদয় হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *